জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিদ্যমান বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে দেরি হচ্ছে কেন, সে বিষয়ে সরকারেরই জবাব দেওয়া উচিত।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "সরকার কেন নিজ দায়িত্বে তাকে ফিরিয়ে আনছে না? বরং তিনি নিজেই বলছেন, ‘আমি ঢুকে যাব’। এর ব্যাখ্যা সরকারই দিতে পারবে।"
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব মামলার রায় ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সেগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তাকে দেওয়া উচিত। তবে সেই বিচার অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ হতে হবে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি রাজনীতিতে ফেরার উপযুক্ত নয়। তার দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের শাসনামলে হত্যা, গুম ও দমন-পীড়নের বহু অভিযোগ রয়েছে এবং এসব ঘটনার এখনো পূর্ণাঙ্গ বিচার হয়নি।
তিনি আরও বলেন, "যারা খুন, গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তারা অনুশোচনা ছাড়াই শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে আবার সক্রিয় হতে চাইছে। এটি জাতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।"
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। অতীতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতার সংস্কৃতি চলে আসছে, যা কোনো সরকারের আমলেই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি স্বাধীন বলা যায় না। তার মতে, সব সরকারই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবি করলেও বাস্তবতায় সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, লোডশেডিং, ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল এবং এসব নিয়ে অভিযোগকারীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।
সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সরকার পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করে, বিরোধী দলও একই সময় দায়িত্ব পালন করে। শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার মূল্যায়ন করবে দেশের জনগণ।