বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বাজেটে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো ও প্রত্যাহারের বাস্তব প্রতিফলন বাজারে দেখতে চান তাঁরা। তিনি বলেন, বাজারে এর প্রভাব দেখা গেলে বোঝা যাবে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছেছে, আর যদি না দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে এর সুবিধা সিন্ডিকেটের হাতেই গেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল এবং মুদিদোকানের মতো প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করায় সরকারকে স্বাগত জানান তিনি।
শফিকুর রহমান দেশের অর্থবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বছরের শেষ তিন মাসে উন্নয়ন প্রকল্পে হঠাৎ ব্যয় বেড়ে যায়, ফলে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। দেশের আবহাওয়া ও বাস্তবতা বিবেচনায় অর্থবছর পরিবর্তন করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতার ঘাটতি ও দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ দুটি বিষয়ে কার্যকর সংস্কার না আনলে বাজেটের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের সমস্যা, তার সমাধান ও বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েই বিরোধী দল কথা বলতে চায়। কাদা ছোড়াছুড়ি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সংসদ পরিচালিত হওয়া উচিত।
সংসদ ‘গরম’ করার আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তাপে দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার সময়। তাই বিরোধী দল কোনো উসকানিতে পা দেবে না এবং দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক ভূমিকা পালন করবে।
বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক ও চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের কোনো গোপন সমঝোতা নেই। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো তলা নেই, আমাদের গলা আছে” এবং তাঁদের আন্দোলন কোনো সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে না।
বাজেটে জুলাই জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশনের জন্য বরাদ্দ না রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য তাঁরা প্রস্তুত। তবে এ জন্য নতুন করে আলাদা কমিটি বা কমিশন গঠনের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না।
বিরোধীদলীয় সদস্যদের আসন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখতে ভবিষ্যতে সব ধরনের বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিজের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।