জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় দলটির নেতারা সরকারের সমালোচনা করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জুলাইয়ের ভয়াবহ দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের চালানো গণহত্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা না হলে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর সরকারিভাবে আগেভাগেই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ঘিরে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। যদিও আগামী ১৬ জুলাই শহীদ দিবস এবং ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নুরুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার সংস্কারের পথ থেকে সরে এসে পুরোনো ফ্যাসিবাদী ধারা অনুসরণ করছে।
জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই জুলাই আন্দোলনকে উপেক্ষা করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় না থাকলেও শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে রয়েছে।
সভায় জুলাই শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জুলাইয়ের চেতনাকে অস্বীকার করা হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে আবারও আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই শহীদ জিহাদ হোসেনের বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, চাঁদার দাবিতে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বারবার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের নই, আমরা জুলাই পরিবারের সদস্য।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন শহীদ রেজাউল করিমের বাবা আল-আমীন মীর, শহীদ আলিফের বাবা সৈয়দ গাজীউর রহমান, আহত জুলাইযোদ্ধা শাহ আলম গাজী, কামরুল ইসলামসহ অন্যরা। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।