মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক তারা মিয়া (১৯)-এর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক শেষে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে নিহতের বড় ভাই রাজু মিয়া মরদেহটি গ্রহণ করেন।
নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। কুলাউড়া থানা পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা রেনু মিয়া, সুমন মিয়া, রইস আলী ও তারা মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের গতিরোধের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।
তবে নিহত তারা মিয়ার মা আজিরুন্নেছা দাবি করেন, তার ছেলে কোনো ধরনের চোরাকারবারে জড়িত ছিলেন না। তিনি বলেন, স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন টাকা দেওয়ার কথা বলে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। তিনি বাধা দিলেও ছেলে তার কথা শোনেনি। পরে তারা ভারতে প্রবেশ করলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে। ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়ে আজিরুন্নেছা বলেন, ‘আমার বুকটা খালি হই গেল।’
বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিহত তারা মিয়া চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সম্প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী যুবক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার বিকেলে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।