দিনের আলো ফুটলেই সচল হয়ে ওঠে ভোলা-বরিশাল নৌপথ। ফেরি, লঞ্চ ও ট্রলারে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেন যাত্রীরা। তবে সূর্যাস্তের পরই বদলে যায় পরিস্থিতি। বিশেষ করে রাতের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে বরিশালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে ভোলার মানুষের সামনে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত নৌযান ও জরুরি পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগী, প্রসূতি, শিশু কিংবা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত বরিশালের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের নিয়ে স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করতে হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনের বেলায় ভোলা-বরিশাল নৌপথে বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করলেও রাত ৮টার পর অনেক ঘাটে কার্যক্রম সীমিত হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পারাপারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্বজনদের ব্যক্তিগতভাবে নৌযান খুঁজতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও দ্রুত পারাপারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি বিপাকে ফেলে গুরুতর রোগী, প্রসূতি, শিশু ও দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও রাতের নৌ-যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয় শঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোলা ও বরিশালের মধ্যে নৌ-যোগাযোগ শুধু সাধারণ যাতায়াতের বিষয় নয়; এটি ভোলার মানুষের জরুরি চিকিৎসার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। তাই রাতের সময় জরুরি রোগী পারাপারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন নৌযান, নির্দিষ্ট ঘাট ও সার্বক্ষণিক জরুরি নৌ-সেবা চালুর দাবি দীর্ঘদিনের।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাতে ভোলা-বরিশাল নৌপথে জরুরি পারাপারের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করলে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।