মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে আসা এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইরান-সংকট শুরুর আগের অবস্থার কাছাকাছি নেমে এসেছে।
আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৫৮ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের এই পতন সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার। সেই তুলনায় আগস্টের তেল কম দামে বিক্রি হওয়া স্বল্পমেয়াদে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার বার্তা দিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এক ফোরামে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে অন্তত ২ কোটি ব্যারেল তেল বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কারণ হরমুজ প্রণালির কিছু এলাকায় এখনো মাইন অপসারণের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক ছাড় পাওয়ার পর ইরানও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে খালাসযোগ্য অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে দামে পড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে এবং দাম বর্তমান পর্যায়েই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।