ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু অস্ত্রের মজুত কমে আসার খবর এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী করিম ঘারিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাঁরা একধরনের বার্তা পাচ্ছেন। তবে এসব বার্তা কীভাবে বা কার মাধ্যমে আসছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, বার্তাগুলো ইতিবাচক।
ঘারিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়টি সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নতুন সীমানা নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা খুব শিগগিরই শেষ হবে। আমার মনে হয় না, তারা আর খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে।’
তবে একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
গত মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে সক্ষম দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত যথেষ্ট রয়েছে। তবে কিছু অস্ত্রের মজুত তুলনামূলকভাবে কম বলে স্বীকার করেন তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো নতুন উৎপাদন কারখানা তৈরি করছে বলেও জানান ট্রাম্প। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের কারখানাও রয়েছে। এদিকে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ট্রাম্প প্রশ্ন করেছিলেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা
সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের পর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ইরানের কেশম দ্বীপের আশপাশে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’র বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে ইরানের পার্লামেন্টে একটি খসড়া বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই নিয়ম অমান্যকারীদের জরিমানার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির আস্থার সংকট নিয়েও মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একদিকে সামরিক হুমকি এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানানোর মতো পরস্পরবিরোধী নীতির অভিযোগ করেন।
মোসাদের হয়ে কাজের অভিযোগে ২১ জন গ্রেপ্তার
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় কিরমান প্রদেশ থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সাময়িক চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফলে একদিকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক বার্তার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।