ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে প্রেমিক দুবাই প্রবাসী আমিন খানের বাড়িতে অনশন করছেন লায়লা নামে এক তরুণী। বিষের বোতল হাতে নিয়ে টানা পাঁচ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর ইউনিয়নের শংকরাদহ গ্রামের সোহাগ খানের মেয়ে লায়লার সাথে একই ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের কামাল খানের ছেলে প্রবাসী আমিন খানের দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমিন দেশে থাকাকালীন দুই বছর এবং পরবর্তীতে দুবাই চলে যাওয়ার পর আরও দুই বছর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের এই সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে সম্প্রতি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়ে গত শনিবার থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন লায়লা।
অনশনরত তরুণীর বাবা সোহাগ খান ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “বিয়ে করার আশ্বাস দিয়েই আমার মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছিল। এখন সে বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। বিষয়টির সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য গ্রামের সর্দার-মাতব্বররা ছেলে পক্ষকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তারা প্রথমে রাজি হলেও এখন নানা অজুহাতে টালবাহানা করছে। মেয়ে বিষের বোতল নিয়ে সেখানে অনশন করছে;যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আমরা শঙ্কায় আছি।”
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রবাসীর বড় ভাই আজমল খান বলেন, “আমার ছোট ভাইয়ের সাথে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল—এটি সত্য। কিন্তু আমার ভাই এখন বিয়েতে সম্মতি দিচ্ছে না। এতে আমাদের আর কী করার আছে?” হাতে বিষের বোতলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “বিষের বোতল সাথে ছিল, তবে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেটি সরিয়ে নিয়েছেন।”
বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় সর্দার ও মাতব্বররা কয়েক দফায় সালিশ-বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় নাসিরনগর থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।