নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেল-সংযোগ সেতুর ভায়াডাক্টের পিলারের নিচ থেকে মাটি অপসারণকে প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ বলে জানিয়েছেন সড়ক, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এ কাজের ফলে রেললাইন বা সেতুর নিরাপত্তায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল-সংযোগ সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে চলমান ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি আলীগঞ্জ এলাকায় সেতুর পিলারের নিচ থেকে গভীর করে মাটি অপসারণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জলাভূমি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। এখন প্রকল্প শেষ হওয়ার পর চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেই অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করে জায়গাটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যেন অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে রেললাইনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বাস্তবে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। প্রকল্পের নকশা ও প্রকৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ীই সব কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার এলাকায় অস্থায়ী ভরাট অপসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে তিন ফুট মাটি অপসারণ করা হবে। পাইল ক্যাপ মূল মাটির স্তরের প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট নিচে এবং এর নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীর পাইল রয়েছে। ফলে ভায়াডাক্টের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই।
রবিউল আলম বলেন, মাটি অপসারণের মাধ্যমে এলাকার প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রেলওয়ের সম্প্রসারণ বা নতুন অবকাঠামো নির্মাণেও জমিটি ব্যবহার করা যাবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছে। সেনাবাহিনী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।