কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে অপহরণ, মানবপাচার, মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প বা নৌঘাঁটি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ দাবিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে গণস্বাক্ষর সংবলিত আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আবেদনে টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন জলসীমায় নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত নৌ টহল বাড়ানোর লক্ষ্যে নৌবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প বা ঘাঁটি স্থাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে টেকনাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকা। একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত ও নাফ নদী, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর থাকায় এ অঞ্চলের জলপথ অপরাধী চক্রের তৎপরতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে নাফ নদী ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে মাদক পাচার, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণসহ জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, টেকনাফে নৌবাহিনীর একটি স্থায়ী ক্যাম্প বা নৌঘাঁটি স্থাপন করা হলে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন জলসীমায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। এতে মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অপহরণসহ অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।
আবেদনে আরও বলা হয়, টেকনাফের জানমাল ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নৌবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প বা নৌঘাঁটি স্থাপনের সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
টেকনাফ উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।