রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. সাদ্দাম (৩৫) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় আবুল বাশার ও সাদ্দামকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ওয়ান-স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২টার দিকে আবুল বাশার মারা যান।
নিহতের বড় ভাই সবুজ মিয়া জানান, পূর্বশত্রুতার জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, আবুল বাশার একটি সালিস বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে খেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসা করে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে আবুল বাশার ও সাদ্দাম গুরুতর আহত হন।
মোহাম্মদপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, নিহত আবুল বাশার আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল-জাপানের ম্যাচ দেখা নিয়ে বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিব ও এক কিশোরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বুধবার রাতে আদাবরের নবোদয় কাঁচাবাজার সংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে সালিস বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এতে আবুল বাশার ও সাদ্দাম গুরুতর আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাশারের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
স্বজনরা জানান, আবুল বাশার পেশায় একজন প্রাইভেটকারচালক ছিলেন। তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। গফুর মিয়ার ছেলে আবুল বাশার বর্তমানে আদাবর বি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন।