যশোরের মণিরামপুরে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির মাছের ঘেরের কারণে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন ধস ও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সড়কের অংশ কেটে মাছের ঘের তৈরি করে সেটিকেই ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মণিরামপুর-অভয়নগর প্রধান সড়কের হাজিরহাট-কদমতলা এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল ও ভাঙন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশের জমিতে মাছের ঘের পরিচালনা করছেন লেবুগাতী গ্রামের সমীর হালদার। ঘেরের নিজস্ব শক্ত পাড় না থাকায় সরকারি সড়কের মাটি ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহারের ফলে সড়কের মাটির ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের পাশের শতাধিক পুরোনো গাছ হেলে পড়ে ঘেরের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে।
সরকারি সড়কই ঘেরের পাড়!
অনুসন্ধানে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারসংলগ্ন এলজিইডির ব্যস্ততম সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশের পাশ ঘেঁষে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘের সম্প্রসারণের সময় সড়কের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। ফলে সড়ক ও ঘেরের মধ্যকার মাটির সংযোগ দুর্বল হয়ে ক্রমেই ভাঙন বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি মণিরামপুর ও অভয়নগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধসের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বর্ষা ও অতিবৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমীর হালদার অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় অবৈধ দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলে দাবি তাদের।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সমীর হালদারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঘের পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স থাকার দাবি করেন।
তবে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি মূলত এলজিইডির সড়ক-সংক্রান্ত। সড়ক কেটে ঘের তৈরির অনুমতি পরিবেশ অধিদপ্তর দেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে তারা জানান।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যক্তিগত মাছের ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে হাজারো মানুষের চলাচল। তাদের দাবি, অবিলম্বে সড়কের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ঘেরের পাড় অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, সড়কের ভাঙন ও অবৈধ ঘেরের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি অর্থে নির্মিত কোটি টাকার সড়ক যদি ব্যক্তিগত মাছের ঘেরের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ে, তাহলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তো?
জনস্বার্থে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সড়কের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।