| ঢাকা
নিউজ.জংশন
বিজ্ঞাপন
যেকোন ধরনের ওয়েব সাইট, ওয়েব এপ, বা সফটঅয়ার এর জন্য আজই যোগাযোগ করুন SYED CREATIONS এ। এক যায়গায় পাবেন সকল সমাধান। ফ্রী পরামর্শের জন্য কল দিন: ০১৮৩৭৫২২৯০২ নাম্বারে।
সারাদেশ

পাত্র সেজে অভিযানে হত্যারহস্যের সমাধান

প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভে ১৩ বছরের তিথিকে হত্যা, অভিনব কৌশলে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই

নিউজ জংশন ডেস্ক
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৬
পাত্র সেজে অভিযানে হত্যারহস্যের সমাধান
নরসিংদীর আলোচিত কিশোরী সুমনা আক্তার তিথি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আসামিরা । ছবি: পিবিআইয়ের সৌজন্যে

নরসিংদীর আলোচিত কিশোরী সুমনা আক্তার তিথি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাত্র সেজে সন্দেহভাজনদের আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এক পিবিআই কর্মকর্তা। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছিল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

পাত্র সেজে সফল অভিযান

পিবিআই সূত্র জানায়, পাত্রপক্ষ পরিচয়ে এক কর্মকর্তা ফরিদপুরের বোয়ালমারীর একটি বাড়িতে যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে জানতে পারেন, যাঁদের খোঁজা হচ্ছে তাঁরা ওই বাড়িতে না থাকলেও কাছের এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তথ্যটি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় দুই সহোদর রমজান আলী (লিমন) ও হাসিবুর রহমান (শান্ত)-কে।

পরবর্তীতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কাউছার মিয়া ও ইমন আলীকে। চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

যেভাবে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়

২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচর গ্রামে নিজ বাড়িতে হাতুড়ির আঘাতে নিহত হয় ১৩ বছর বয়সী সুমনা আক্তার তিথি। হামলায় গুরুতর আহত হন তাঁর মা আসমা আক্তার। একই সঙ্গে বাড়ি থেকে লুট করা হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা।

ঘটনার পর তদন্তের শুরুতে পিবিআইয়ের হাতে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছিল না। আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না, মেলেনি কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও। পরে নিহত তিথির বাবা মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তাঁদের কম্বোডিয়াপ্রবাসী মেয়ে ও জামাতা নিয়মিত টাকা পাঠাতেন এবং সেই টাকা উত্তোলনের কাজে সহযোগিতা করতেন পরিচিত ব্যক্তি হাসিবুর রহমান।

এরপর প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে দেখা যায়, হত্যার রাতে হাসিবুর নরসিংদীতে অবস্থান করলেও পরদিন ভোরেই ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় চলে যান। একই সময়ে রমজান আলীর বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে কিশোরগঞ্জের দিকে যাওয়ার তথ্যও পায় পিবিআই। মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ, নজরদারি ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়।

টাকার লোভেই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকার খবর পেয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন রমজান আলী। বড় ভাই হাসিবুর রহমানের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো টাকা বাড়িতেই রাখা হয়। পরে পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয় কাউছার মিয়া ও ইমন আলীকে। অভিযানের আগে স্থানীয় বাজার থেকে একটি হাতুড়ি ও রশি কেনা হয়।

দরজা খুলতেই হামলা

ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনজন মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে যান। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। দরজায় কড়া নাড়লে ১৩ বছরের তিথি দরজা খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মুখ চেপে ধরা হয়। চিৎকার করার চেষ্টা করলে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়।

মেয়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে মা আসমা আক্তারের ওপরও হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় তিথি এবং গুরুতর আহত হন তাঁর মা।

এরপর হামলাকারীরা পুরো বাড়ি তল্লাশি করে একটি লাল রঙের বালতিতে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা নগদ টাকা উদ্ধার করে। সেই টাকা একটি স্কুলব্যাগে ভরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।

১০ লাখ টাকা উদ্ধার, বিচার চলছে

ঘটনার চার দিন পর, ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে রমজান ও হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কাউছার মিয়া ও ইমন আলীকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নরসিংদীর পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান।

পিবিআইয়ের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং মাঠপর্যায়ের অভিযানের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

SYED CREATIONS

যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ বা সফটওয়্যারের জন্য আজই যোগাযোগ করুন। এক জায়গায় পাবেন সকল সমাধান!

০১৮৩৭৫২২৯০২