দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন আয়োজন করতে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও ‘নির্বাচনি কর্তা’ এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর এ নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা সীমিত। তবে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই এবং পুরো প্রক্রিয়ায়ও যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে আত্মবিশ্বাসী।
নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক। সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে না বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ব্যালট ছাপানো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্টেশনারিসহ কিছু আনুষঙ্গিক ব্যয় হবে। সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণের জন্য বৈঠক আয়োজনের ব্যয় সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে।
ভোটগ্রহণ ও গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও সরাসরি সম্প্রচার চালু থাকবে। তবে ফলাফল ঘোষণার সময় কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না।
তিনি জানান, ব্যালটে ভোটারের নাম ও প্রার্থীর নাম থাকবে।
সিইসি আরও বলেন, ভোটগ্রহণের সময় সংসদ অধিবেশন কক্ষে কোনো ধরনের প্রচার চালানো যাবে না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।