সরকার সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ লক্ষ্যে সিলেটের পর্যটন খাত ও বিমানবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, “পর্যটন উন্নয়নে আমরা একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করছি, যার অন্যতম অগ্রাধিকার সিলেট। আমরা চাই সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে। পর্যটন অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সিলেটের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহারের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, “‘হারমনি ফেস্টিভাল’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অসাধারণ উপস্থাপনা।”
তিনি জানান, সরকার কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন, এথনিক পর্যটন এবং টেকসই পর্যটন বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে পর্যটনের সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মোল্লাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।