| ঢাকা
নিউজ.জংশন
বিজ্ঞাপন
যেকোন ধরনের ওয়েব সাইট, ওয়েব এপ, বা সফটঅয়ার এর জন্য আজই যোগাযোগ করুন SYED CREATIONS এ। এক যায়গায় পাবেন সকল সমাধান। ফ্রী পরামর্শের জন্য কল দিন: ০১৮৩৭৫২২৯০২ নাম্বারে।
জাতীয়

তিতাস গ্যাসের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে আবাসিক-বাণিজ্যিক গ্রাহক

৫টি সিএনজি স্টেশন ও ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা বন্ধ, বাড়তি খরচে বিকল্প জ্বালানির দিকে সাধারণ মানুষ

সামজাদ জসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫
তিতাস গ্যাসের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে আবাসিক-বাণিজ্যিক গ্রাহক
সংগৃহীত ছবি

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র তিতাসের অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরায়। যে জেলা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকায় পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গৃহস্থালি রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বন্ধ সিএনজি স্টেশন ও শিল্পকারখানা

গ্যাসের তীব্র সংকটে জেলার পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা।

সিএনজি চালক সোহেল মিয়া বলেন, “পাম্পে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছি না। গাড়ি না চললে দিনে এনে দিনে খাওয়া আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?”

এদিকে গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে।

বাড়তি খরচে বিকল্প জ্বালানি

বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। শহর ও আশপাশের অনেক এলাকার বাসিন্দাকে মাটির চুলা ব্যবহার অথবা চড়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে হচ্ছে।

কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বুধবার দুপুর থেকেই বাসায় গ্যাস নেই। হঠাৎ গ্যাস চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে।”

পাইকপাড়ার বাসিন্দা সালমা আক্তার বলেন, “সকাল থেকে চুলায় কোনো চাপ নেই। বাচ্চাদের নাশতা ও পরিবারের রান্না নিয়ে বিপদে পড়েছি। সিলিন্ডার গ্যাসে রান্নায় বাড়তি খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি।”

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ বর্তমানে গ্যাস সংকটে ভুগছেন।

সংকটের কারণ যা বলছে কর্তৃপক্ষ

বিজিডিসিএলের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিজিডিসিএলের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ স্বল্পচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিজিডিসিএল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, “গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কমে যাওয়ার কারণে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সব সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আবাসিক এলাকাগুলোরও বেশিরভাগ জায়গায় গ্যাস নেই। কখন নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।”

গ্যাসের তীব্র সংকট দ্রুত নিরসন করে গৃহস্থালি, পরিবহন ও শিল্প খাতের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


সম্পর্কিত খবর

SYED CREATIONS

যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ বা সফটওয়্যারের জন্য আজই যোগাযোগ করুন। এক জায়গায় পাবেন সকল সমাধান!

০১৮৩৭৫২২৯০২