জীবনের প্রতিটি মানুষেরই এমন একটি জায়গা থাকে, যেখানে ফিরে গেলে সময় যেন থেমে যায়। আমার কাছে সেই জায়গাটির নাম নাদামপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং আমার শৈশব, কৈশোর, স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং আত্মগঠনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, প্রতিটি বেঞ্চ, খেলার মাঠ, সকালের সমাবেশ, ঘণ্টাধ্বনি এবং শিক্ষকদের স্নেহমাখা উপদেশ আজও স্মৃতিতে জীবন্ত। এখানে আমরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করিনি, শিখেছি শৃঙ্খলা, সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার শিক্ষা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। নতুন ভবন হয়েছে, নতুন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এসেছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের সেই প্রাণ, সেই আবেগ এবং স্মৃতির মূল্য কখনো বদলায় না। একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কাছে বিদ্যালয় মানেই এমন একটি আশ্রয়, যেখানে ফিরে গেলে নিজের শেকড়কে খুঁজে পাওয়া যায়।
আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, সৎ, দায়িত্বশীল এবং মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও বিদ্যালয়ের। একই সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও উচিত নিজেদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে পাশে দাঁড়ানো, যাতে আগামী প্রজন্ম আরও সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
নাদামপুর উচ্চ বিদ্যালয় আমার কাছে একটি নাম নয়, একটি অনুভূতি। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি বিশ্বাস করি, যে মানুষ তার বিদ্যালয়কে ভালোবাসে, সে তার শিকড়কে কখনো ভুলে যায় না। আর সেই শিকড়ের শক্তিই মানুষকে জীবনের প্রতিটি পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।
নাদামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা। প্রিয় এই প্রতিষ্ঠান জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আরও বহু প্রজন্মকে আলোকিত করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।